ধামরাইয়ে শিল্প থাকবে, তবে পরিবেশ ধ্বংস করে নয়: এমপি সুলতানা আহমেদ
ঢাকার ধামরাইয়ে শিল্পকারখানা ও ইটভাটার পরিবেশগত compliance নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। তিনি বলেছেন, শিল্প ও ব্যবসার বিরুদ্ধে তিনি নন; তবে আইনের বাইরে গিয়ে ব্যবসা করার অধিকার কারও নেই। পরিবেশগত ছাড়পত্রকে দূষণ করার লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সভায় শিল্পকারখানার মালিকদের উদ্দেশে সুলতানা আহমেদ বলেন, শুধু পরিবেশগত ছাড়পত্র থাকলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; ছাড়পত্রের শর্ত বাস্তবে পালন করা হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ETP পরিচালনা, পানি পরীক্ষার রিপোর্ট, Stack Emission Test, শব্দদূষণ, উৎপাদন ক্ষমতা ও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী অবকাঠামো রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে মালিকদের কাছে জবাবদিহি চান। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের সরেজমিন পরিদর্শন ও পরীক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
ইটভাটা মালিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, ধামরাইয়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অভিযান ও জরিমানা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ধামরাই এলাকায় ২০টি মামলায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১১টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়। পরে ৪ মার্চ ১৩টি মামলায় ৪১ লাখ টাকা জরিমানা, তিনটি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, একটি বন্ধের নির্দেশ এবং একটি ভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব অভিযানের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় প্রশাসনের কাছে ধামরাইয়ের সব বড় শিল্পকারখানা ও ইটভাটার হালনাগাদ Compliance Database তৈরির দাবি জানান সংসদ সদস্য। এতে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত ছাড়পত্র, মেয়াদ, শর্ত, ETP, পানি ও বায়ু পরীক্ষার রিপোর্ট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পূর্বের মামলা-জরিমানা এবং সর্বশেষ পরিদর্শনের তথ্য রাখার প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পানি, বায়ু ও শব্দের স্বাধীন পরীক্ষা, ইটভাটায় ব্যবহৃত মাটির উৎস যাচাই এবং পূর্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনঃপরিদর্শনের আহ্বান জানান।
সুলতানা আহমেদ বলেন, বৈধভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসন সহযোগিতা করবে। তবে আইন ভঙ্গ করলে পরিচয়, রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক ক্ষমতা বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, “কাগজের অনুমোদন নয়—বাস্তব compliance চাই; মৌখিক আশ্বাস নয়—লিখিত অঙ্গীকার চাই।” ধামরাইবাসীর বাতাস, পানি, কৃষিজমি ও স্বাস্থ্য রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ধামরাইয়ে শিল্প থাকবে, তবে পরিবেশ ধ্বংস করে নয়: এমপি সুলতানা আহমেদ
ঢাকার ধামরাইয়ে শিল্পকারখানা ও ইটভাটার পরিবেশগত compliance নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। তিনি বলেছেন, শিল্প ও ব্যবসার বিরুদ্ধে তিনি নন; তবে আইনের বাইরে গিয়ে ব্যবসা করার অধিকার কারও নেই। পরিবেশগত ছাড়পত্রকে দূষণ করার লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সভায় শিল্পকারখানার মালিকদের উদ্দেশে সুলতানা আহমেদ বলেন, শুধু পরিবেশগত ছাড়পত্র থাকলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; ছাড়পত্রের শর্ত বাস্তবে পালন করা হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ETP পরিচালনা, পানি পরীক্ষার রিপোর্ট, Stack Emission Test, শব্দদূষণ, উৎপাদন ক্ষমতা ও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী অবকাঠামো রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে মালিকদের কাছে জবাবদিহি চান। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের সরেজমিন পরিদর্শন ও পরীক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
ইটভাটা মালিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, ধামরাইয়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অভিযান ও জরিমানা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ধামরাই এলাকায় ২০টি মামলায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১১টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়। পরে ৪ মার্চ ১৩টি মামলায় ৪১ লাখ টাকা জরিমানা, তিনটি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, একটি বন্ধের নির্দেশ এবং একটি ভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব অভিযানের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় প্রশাসনের কাছে ধামরাইয়ের সব বড় শিল্পকারখানা ও ইটভাটার হালনাগাদ Compliance Database তৈরির দাবি জানান সংসদ সদস্য। এতে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত ছাড়পত্র, মেয়াদ, শর্ত, ETP, পানি ও বায়ু পরীক্ষার রিপোর্ট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পূর্বের মামলা-জরিমানা এবং সর্বশেষ পরিদর্শনের তথ্য রাখার প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পানি, বায়ু ও শব্দের স্বাধীন পরীক্ষা, ইটভাটায় ব্যবহৃত মাটির উৎস যাচাই এবং পূর্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনঃপরিদর্শনের আহ্বান জানান।
সুলতানা আহমেদ বলেন, বৈধভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসন সহযোগিতা করবে। তবে আইন ভঙ্গ করলে পরিচয়, রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক ক্ষমতা বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, “কাগজের অনুমোদন নয়—বাস্তব compliance চাই; মৌখিক আশ্বাস নয়—লিখিত অঙ্গীকার চাই।” ধামরাইবাসীর বাতাস, পানি, কৃষিজমি ও স্বাস্থ্য রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

আপনার মতামত লিখুন